
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ তিন মাস মার্কিন বন্দিশালায় কাটানোর পর অবশেষে সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা পাঠালেন ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। গত জানুয়ারিতে কারাকাসের সরকারি বাসভবন থেকে মার্কিন কমান্ডোদের হাতে নাটকীয়ভাবে অপহরণের শিকার হওয়ার পর এই প্রথম তাদের কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে এলো। শনিবার (২৮ মার্চ) মাদুরোর ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এক বার্তায় তারা জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা ‘অবিচল’ ও ‘শান্ত’ রয়েছেন।আরও পড়ুন:
নবম–দশম গ্রেডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে চাকরির সুযোগ

কারাগারের জীবন ও প্রার্থনা বর্তমানে ব্রুকলিনের কুখ্যাত মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রয়েছেন এই দম্পতি। সেখানে ইন্টারনেট বা সংবাদপত্রের সুবিধা না থাকলেও মাদুরো সময় কাটাচ্ছেন বাইবেল পড়ে। কারাসূত্রে জানা গেছে, জেলখানার অন্য বন্দিরা তাকে এখনও ‘প্রেসিডেন্ট’ বলেই সম্বোধন করেন। মাদুরোর ছেলে ‘নিকোলাসিটো’ জানিয়েছেন, তার বাবা কারাগারে নিয়মিত ব্যায়াম করছেন এবং মানসিকভাবে বেশ শক্ত আছেন।প্রতি কৃতজ্ঞতা পোস্টটিতে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আপনাদের বার্তা, ইমেইল এবং প্রার্থনা পেয়েছি। ভালোবাসার প্রতিটি শব্দ আমাদের আত্মাকে পূর্ণ করে এবং মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। ভেনেজুয়েলার ভেতরে ও বাইরে যে সংহতি আপনারা দেখাচ্ছেন, তার জন্য আমরা গর্বিত। আদালতে নীরবতা মাদকের ষড়যন্ত্র ও অস্ত্র রাখার মতো একাধিক অভিযোগে নিউইয়র্কের আদালতে মাদুরোর বিচার চলছে। যদিও তিনি নিজেকে নির্দোষ ও ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে দাবি করেছেন। গত বৃহস্পতিবার শুনানির সময় এই দম্পতি কোনো কথা বলেননি। এমনকি ভেনেজুয়েলা সরকারের সহায়তা ছাড়া আইনি খরচ মেটাতে তাদের অক্ষমতার আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন আদালত। ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি মাদুরোর অবর্তমানে বর্তমানে দেশটির হাল ধরেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও তেল নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনছেন। এদিকে দীর্ঘ তিক্ততার পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে।