রাজশাহী অঞ্চলে হাম রোগের ব্যাপক বিস্তার, শিশু মৃত্যুর হার বাড়ায় গভীর উদ্বেগ
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী
রাজশাহী অঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামে আক্রান্ত শিশুদের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ কয়েকজন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং কিছু শিশু এখনও সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চলতি মাসজুড়ে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব শিশুকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে, তাদের মধ্যেও মৃত্যুর হার কম নয়। আবার আইসিইউ বেডের স্বল্পতার কারণে অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়ও কিছু শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে তুলছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংক্রমণের বিস্তার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী এবং পাবনা অঞ্চলে।
অন্য হাসপাতালগুলোর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। পাবনা সদর হাসপাতাল-এ বেশ কয়েকজন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যদিও সেখানে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল-এ গত কয়েক মাসে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কিছু গুরুতর সমস্যা সামনে এসেছে। সংক্রামক রোগের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো থাকলেও পর্যাপ্ত জনবল ও ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেক শিশু অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক শিশুর টিকা কার্ডে নির্ধারিত সময়ের হাম প্রতিরোধী টিকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ৯ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো, কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানা গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬