একজনের কাঁধে পুরো উপজেলা: প্রশাসনিক শূন্যতায় স্থবির কেশবপুর
বাবলু হাসান কেশবপুর উপজেলা প্রতিনিধি, যশোর
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বর্তমানে প্রশাসনিক কার্যক্রম যেন অনেকটাই একজন কর্মকর্তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য বা কার্যত অকার্যকর থাকায় সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি, হতাশা ও অনিশ্চয়তা।উপজেলার বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কেশবপুর উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ফলে ভূমি সংক্রান্ত নামজারি, খারিজ, জমির বিরোধ, খাসজমি, সরকারি জমি রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে।অন্যদিকে, কেশবপুর থানায় স্থায়ী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) না থাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। থানায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং জনসাধারণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এছাড়া কেশবপুর পৌরসভার মেয়র না থাকা, উপজেলা চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকা, এবং উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৩ জন চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকা এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে নাগরিক সনদ, প্রত্যয়নপত্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন,সালিশ-বিচারসহ বহু সেবা ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি ছোট কাজের জন্যও এখন মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। কোনো দপ্তরে গেলে বলা হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নেই, আবার কোথাও কাগজপত্র আটকে থাকছে অনুমোদনের অভাবে।এতে করে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
বর্তমানে কেশবপুর উপজেলায় প্রশাসনের দৃশ্যমান দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেক্সোনা খাতুন।স্থানীয়দের মতে, তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও একজন কর্মকর্তার পক্ষে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের চাপ সামাল দেওয়া বাস্তবিকভাবেই অত্যন্ত কঠিন।
সচেতন মহল বলছেন,কেশবপুরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় একসঙ্গে এতগুলো পদ শূন্য থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং সরকারের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য তাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কেশবপুর উপজেলায় শূন্য পদগুলোতে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে এসি ল্যান্ড, ওসি, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬