আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে নিখোঁজের ৪৩ ঘণ্টা পর এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।নিহত মো:আরাফাত (১৬) শ্রীনগর পাইলট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছাকাছি নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরার সময় মরদেহটি দেখতে পেয়ে দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন।পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ মার্চ দুপুর আড়াইটার দিকে আরাফাত চার বন্ধুর সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে।এ সময় হঠাৎ তীব্র স্রোতের টানে সে নদীর গভীরে ভেসে যায়।তার সঙ্গে থাকা অন্য তিন বন্ধু সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আরাফাত নিখোঁজ হয়ে যায়।ঘটনার পরপরই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং পরিবারে শুরু হয় আহাজারি।নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিস,নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।টানা দুই দিন অভিযান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।অবশেষে নিখোঁজের প্রায় ৪৩ ঘণ্টা পর নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি জানান,খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।আরাফাতের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে।স্বজন,সহপাঠী ও স্থানীয়দের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।প্রতিবেশীরা জানান,আরাফাত ছিল ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র।তার অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।স্থানীয়দের দাবি,পদ্মা নদীর বিপজ্জনক এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।বিশেষ করে সেতু সংলগ্ন এলাকায় গোসল বা নামা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ খায়রুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়: উত্তর আব্দুল্লাহপুর কোটবাড়ি ফায়দাবাদ ঢাকা।
মোবাইল: 01968525877
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০২৬