
নিরপরাধ দিনমজুর কারাগারে লৌহজংয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে তোলপাড়
আবু বকর সিদ্দিক:- মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক নিরপরাধ দিনমজুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি রুবেল সরদার,যিনি স্থানীয়ভাবে দিনমজুর হিসেবে পরিচিত।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের মৃধা বাড়ি সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীরে।
মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো:বাসিত সাত্তার।
এ সময় নদীর পাড়ে নোঙর করা দুটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে দুই শ্রমিককে আটক করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,একই সময় গোসল শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রুবেল সরদার।ঘটনাস্থলে ভিড় দেখে এগিয়ে গেলে তাকে শ্রমিক ভেবে আটক করা হয়।পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি,রুবেল সরদার বাল্কহেডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।
তিনি পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।আটকের সময় তিনি নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
কিন্তু তার কথা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।রুবেলের স্ত্রী সাবিনা আক্তার বলেন,অন্যায়ভাবে তার স্বামীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।তিনি দ্রুত স্বামীর মুক্তি ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।প্রতিবেশী বাবুল মিয়া বলেন,এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।
এদিকে বাল্কহেড মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আয়ুব মিয়া জানান,জ্বালানি সংকটে বাল্কহেড দুটি সেখানে রাখা হয়েছিল।তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া শ্রমিকদের আটক করে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাতীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির স্থানীয় নেতা নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো:বাসিত সাত্তার।
তিনি দাবি করেন,ষঘটনাস্থল থেকেই রুবেলকে আটক করা হয়েছে।তার ভাষ্য,কাউকে বাড়ি থেকে এনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানান,সাজা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।এ ঘটনায় সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।