
রাজশাহীতে টানা মৃদু তাপপ্রবাহ: ৩৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে তাপমাত্রা, ভোগান্তিতে জনজীবন
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
গ্রীষ্মের শুরুতেই রাজশাহীতে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। টানা দুই দিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম অস্বস্তি। প্রখর রোদ ও শুষ্ক গরমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে বাইরে কাজ করা মানুষদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে কঠিন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগের দিন বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে টানা দুই দিন ধরে রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় এই তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। গরমের তীব্রতা এতটাই বেশি যে স্বাভাবিক চলাফেরাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তবে জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষদের এই পরিস্থিতির মধ্যেও কাজ করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রিকশাচালক, দিনমজুর ও নির্মাণশ্রমিকরা।
বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন,
“সকাল থেকেই গরম থাকে, কিন্তু দুপুরে তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তবুও কাজ থামানো যায় না। যাত্রীও আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না।”
লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার দিনমজুর শফিকুল ইসলাম জানান,
“রোদে কাজ করতে গেলে কিছুক্ষণ পরই মাথা ঘোরে। ঘামে পুরো শরীর ভিজে যায়। মাঝে মাঝে কাজ বন্ধ রেখে বিশ্রাম নিতে হয়, এতে আয় কমে যাচ্ছে।”
কাজলা গেট এলাকার রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই গরমে রিকশা চালানো খুব কষ্টের। রোদে বের হলেই মাথা ব্যথা করে। যাত্রী কম থাকায় আগের মতো আয় হচ্ছে না।”
শাহমখদুম থানার উপশহর এলাকার নির্মাণশ্রমিক সোহেল রানা বলেন,
“রোদে কাজ করলে শরীর জ্বলে যায়। বারবার পানি খেতে হয়, তবুও তৃষ্ণা মেটে না। কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই, তাই কষ্ট করেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।”
তালাইমারী ও বিনোদপুর এলাকার কয়েকজন রিকশাচালক জানান, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়টাতে গরম সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় অনেকেই কিছুক্ষণ কাজ বন্ধ রেখে ছায়ায় আশ্রয় নেন। এতে তাদের দৈনিক আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিকে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে শরবত ও ঠাণ্ডা পানীয়র দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই এসব দোকানে ভিড় করছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। মাঝে অল্প বৃষ্টিপাত হলেও বর্তমানে তা বন্ধ থাকায় তাপমাত্রা আবার বাড়ছে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় গরম আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তাপমাত্রা আরও বেড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আপাতত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
চিকিৎসকরা এই গরমে সুস্থ থাকতে বেশি করে পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, টানা তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই গরম এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।