
মোঃ সাব্বির আহমেদ মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরে বুধবার (১০ ডিসেম্বর )গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদায় পালন করা হলো মাদারীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে টানা ৩৬ ঘণ্টার সম্মুখযুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে মাদারীপুর শত্রুমুক্ত হয়।দিবসটি উপলক্ষে এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ বীর শহীদ সরোয়ার হোসেন বাচ্চু শরীফের শাহাদাৎবার্ষিকী স্মরণে সকালে তাঁর কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মাদারীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ছাড়াও জেলা, পৌর ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শহীদ বাচ্চু শরীফের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে মূল্যায়ন করে বলেন, তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।এসময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর অঞ্চল টিম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আব্দুর রহমান খান, জেলা আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। দোয়া মোনাজাতে শহীদ বাচ্চু শরীফসহ সকল বীর শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জেলার সব থানা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। হানাদাররা পিছু হটে শহরের এ.আর. হাওলাদার জুট মিল ও নাজিমউদ্দিন কলেজে অবস্থান নেয়। পরে গোপন সূত্রে জানা যায়, তারা ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে পালাবে। খবর পেয়ে খলিল বাহিনীর নেতৃত্বে প্রায় ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ঘটকচর থেকে সমাদ্দার ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়।৯ ডিসেম্বর ভোরে পাক সেনারা রওনা হলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন। টানা যুদ্ধের একপর্যায়ে গোলা-বারুদ ফুরিয়ে এলে ১০ ডিসেম্বর বিকেলে হ্যান্ডমাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। এতে মেজর আবদুল হামিদ খটক ও ক্যাপ্টেন সাঈদ-সহ ৫৩ জন পাক ও দোসর সেনা আত্মসমর্পণ করে।এই বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ে ২০ জন হানাদার নিহত হয় এবং শহীদ হন সরোয়ার হোসেন বাচ্চু। মুক্তির সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষ জয়বাংলা ধ্বনিতে রাস্তায় নেমে আনন্দোৎসবে মাতেন।