
রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও জব্দ করা হয়। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা সরবরাহ করে আসছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অবৈধ অস্ত্র, ছিনতাই, অপহরণ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে র্যাব-৫, রাজশাহীর সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জুন গভীর রাতে মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানার বড় বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানকালে সন্দেহভাজন একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সেলিম মিয়া (৪৮) এবং মো. রুবেল মিয়া (৪১)। উদ্ধারকৃত মাদকের পাশাপাশি পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজশাহীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন। তারা একটি সক্রিয় মাদক চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্ধারকৃত গাঁজার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তারা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক সরবরাহ নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর শাহ্ মখদুম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও মাদক কারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।