
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান।
মোঃ সোহরাব হোসেন রাজু ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাশেদ খান নিজেই সংবাদমাধ্যমকে এই চমকপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারেক রহমানের উপস্থিতির শর্তে সমঝোতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ খান মূলত ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনটির দাবিদার ছিলেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক আলোচনার পর বিএনপির হাইকমান্ডের বিশেষ অনুরোধে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনে লড়তে রাজি হন। রাশেদ খান জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে তার নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত হয়ে জনসভা করবেন—এমন বিশেষ শর্তেই তিনি এই আসন থেকে প্রার্থী হতে সম্মত হয়েছেন।
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে রাশেদ খান জানান, মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
রাশেদ খানের এই প্রার্থিতার মাধ্যমে ঝিনাইদহের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই বিএনপির প্রার্থী একপ্রকার নিশ্চিত হলো।
ঝিনাইদহ-২: আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।
ঝিনাইদহ-৩: আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রণির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে এবার যুক্ত হলেন গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান।
রাশেদ খানের নাম ঘোষণার পর থেকেই কালীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এই আসনের হেভিওয়েট দাবিদার ছিলেন। তাদের বাদ দিয়ে জোটের শরিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
কালীগঞ্জের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা মনে করছেন, এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে। স্থানীয় ভোটার নিমাই চন্দ্রের মতে, “হামিদ বা ফিরোজ ভাইয়ের যেকোনো একজনকে আমরা প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করেছিলাম।”
তবে তৃণমূলের এই অসন্তোষকে সাময়িক বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন ,রাশেদ খান আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত সহযোদ্ধা। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন, অর্থাৎ তিনি আমাদেরই লোক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাশেদ খানের পক্ষেই মাঠে নামবেন।”
খুব শীঘ্রই বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়ন ও নির্বাচনী প্রচারণার বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।