
টেকনাফের নাইট্যংপাড়া এলাকায় ২ বিজিবির অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ভয়াল মাদক ক্রিষ্টাল মেথ আইসসহ বিপুল পরিমাণ মাদক সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ উদ্ধার।
মো মোজাম্মেল হক,স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:
কক্সবাজারে টেকনাফ দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক একটি সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, টেকনাফ উপজেলার নাইট্যংপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে গোপনে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
২। সম্প্রতি টেকনাফ নাইট্যংপাড়া এলাকার বরফ কল সংলগ্ন হ্যাচারি খাল এর পার্শ্ববর্তী কেওরাবাগান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন। উক্ত অভিযানে প্রাপ্ত আলামত, প্রমাণাদি এবং অনুসন্ধানলব্ধ তথ্যের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী উক্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়। সন্দেহজনক এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে জানা যায় যে, নাইট্যংপাড়ার বাসিন্দা রশিদ উল্লাহর বাসায় নিয়মিত মাদক সেবন, মাদক বিপণন এবং একই সাথে জুয়ার আসর বসে। উক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি এর পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে টেকনাফ বিওপি ও ব্যাটালিয়ন সদরের বিশেষ টহল দলের সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবি K-9 ইউনিটের সমন্বয়ে নাইট্যংপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ অভিযানিক দল মোতায়েন করা হয়।
৩। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবি’র টহল দল আনুমানিক ০৫৩০ ঘটিকায় টেকনাফ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় কেওরা বাগানে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। অবস্থানরত বিজিবি সদস্যগণ সন্দেহভাজন দুইজন ব্যক্তিকে নাফ নদী হতে সন্তপর্নে কেওড়া বাগান অতিক্রম করে দেয়াল অতিক্রম করে একটি বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে অভিযান দল বিআরএম-৭ হতে আনুমানিক ৫০০ মিটার দক্ষিণ দিকে এবং বিওপি হতে আনুমানিক ০২ কিলোমিটার উত্তর দিকে বাসাটিকে ঘেরাও করে ফেলে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে বাসাটির মালিক নাইট্যংপাড়া গ্রামের মোঃ আঃ রশিদ উল্লাহ, পিতাঃ আব্দুল করীম, পোষ্ট+থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার। তার বাড়িতে তল্লাশী অভিযান পরিচালনার নিমিত্তে বাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘেরাও করে ফেলা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক অভিযান দল মোতায়েন হওয়ার সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িতে থাকা মাদককারবারীরা বাড়ীর পিছনের ঝোপঝাড়ের আড়ালে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত গোপন দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে বিজিবি K-9 ইউনিটের ডগ ‘‘মেঘলা’’ এর সহায়তায় ব্যাপক অনুসন্ধান পরিচালনা করে বসত ঘরের আলমারির মধ্যে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং সানশেড এর উপরে রাখা কলসির মধ্যে হতে ক্রিষ্টাল মেথ আইস এবং মাদক বিপণন এবং সেবনে ব্যবহৃত অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। মাদক পাচার চক্রের মূল সদস্যদের সনাক্ত করা সম্ভব না হলেও মাদক পাচারের সাথে জড়িত পলাতক ২ জনকে ফেলে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের মাধ্যমে দ্রুত সনাক্ত করা হয়। পলাতক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
*জব্দকৃত আলামত*
ক। মাদক লেনদেনে ব্যবহৃত নগদ- ১,১৮,১৯০/-টাকা।
খ। ইয়াবা ট্যাবলেট- ১২৫০ পিস।
গ। ক্রিস্টাল মেথ আইস- ২২৫ গ্রাম।
ঘ। চাপাতি – ০১ টি।
ঙ। বাটন মোবাইল- ০৩ টি।
চ। এন্ড্রয়েড মোবাইল- ০৩ টি।
ছ। পাসপোর্ট – ০১ টি।
জ। ল্যাপটপ- ০১ টি।
৪। আটককৃত মাদকদ্রব্য আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেকনাফ মডেল থানায় দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এই সফল অভিযান বিজিবি’র পেশাদারিত্ব, সতর্কতা, দেশপ্রেম এবং সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির এক সমুজ্জ্বল ও আপোসহীন দৃষ্টান্ত।