
তপন চন্দ্র সরকার, স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ
হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র শীত ও কনকনে বাতাসে অসহায় মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শীত নিবারণের জন্য একটি কম্বলই যেন অনেকের কাছে এখন স্বপ্নের মতো। পুমদী ইউনিয়নের হরিশ্চন্দ্র পট্টি এলাকায় বিধবা রেজিয়া বেগম বিয়ের ঘটকালি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শীতের এই সময়ে তার আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই এলাকার আহেদা বেগম স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। শীতের কারণে কাজ কমে যাওয়ায় তিনিও চরম কষ্টে রয়েছেন। পানান গ্রামের বিধান মনোয়ার বেগম একসময় স্বামী রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। কিন্তু হঠাৎ দুরারোগ্য ব্যাধিতে স্বামীর মৃত্যু হলে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। বিধবা ভাতা ও শীতের কম্বলের জন্য বহু মানুষের কাছে ঘুরেও এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রতিবন্ধী শাহীন একাকী জীবনযাপন করছেন। দক্ষিণ গোবিন্দপুরের খোশনাহার আক্তার কিডনি রোগে আক্রান্ত। মাত্র কয়েকদিন আগে তিন বছরের শিশু সন্তান রেখে তার মা মারা যাওয়ায় এখন নানির কাছে থাকা শিশুটির জন্যও কোনো শীতবস্ত্র বা কম্বল জোটেনি। গোবিন্দপুর গ্রামের শ্রী অঞ্জু দে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে নদীতে নামতে না পারায় এখন হাটে হাটে ডিম বিক্রি করে দিন পার করছেন। তিনি বলেন, “পরিবারের জন্য অন্তত একটি কম্বল খুব দরকার। দক্ষিণ গোবিন্দপুরের ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধ খুরশিদ মিয়া জানান, বাবা রে, মেম্বার-চেয়ারম্যানের কাছে গিয়াও একটা কম্বল পেলাম না। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। অসংখ্য অসহায় মানুষ এখন এই সহায়তার জন্য অপেক্ষায় আছেন,