
রাজশাহীতে বাড়তি দামেও মিলছে না এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার
ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরারা জশাহী, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
অপু দাস
রাজশাহী ব্যুরো প্রধান
রাজশাহীতে হঠাৎ করেই তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাড়তি দাম দিয়েও গ্যাস কিনতে পারছেন না সাধারণ ভোক্তারা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ, পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় এই সংকট দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। তারা অভিযোগ করেন, সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে দোকানগুলোতে ক্রেতাদের দীর্ঘ অপেক্ষা কিংবা খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বেশি দামে অল্প পরিমাণ গ্যাস সংগ্রহ করা গেলেও তা দিয়ে বাজারের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে একদিকে যেমন বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদের অপ্রত্যাশিত বাকবিতণ্ডাও দেখা দিচ্ছে।
ভোক্তারা জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় পাওয়া যেত, বর্তমানে সেই একই সিলিন্ডার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় সাড়ে ৩৫০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
এই বাড়তি ব্যয় সাধারণ মানুষের সংসারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ওমেরা ও ফ্রেশ গ্যাস ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় নেই বললেই চলে। বিকল্প ব্র্যান্ড না থাকায় অনেক ক্রেতা বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির গ্যাস কিনতে।
এদিকে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চা দোকানের মালিকরা বলছেন, গ্যাসের এই অস্বাভাবিক সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ লোকসান দিয়েও দোকান চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার খরচ তুলতে না পেরে মূল্য বাড়ানোর চিন্তাও করছেন তারা, যা সাধারণ মানুষের ওপর আরও চাপ ফেলতে পারে।
অন্যদিকে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডিলাররা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের নীরবতায় সংকটের প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।