
স্বাস্থ্য ডেস্ক
শীতের পারদ নামার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই হাত-পা বা শরীরের বিভিন্ন মাংসপেশিতে টান লাগা বা ব্যথার প্রবণতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক এবং যারা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ঋতুটি বেশ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। কেন শীতে এমন হয় এবং কীভাবে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।
শীতে কেন পেশিতে ব্যথা হয়?
ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে পেশির ব্যথার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে এর প্রধান কারণগুলো হলো:
পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া: ঠান্ডায় শরীরের পেশি ও টেন্ডন সংকুচিত হয়ে যায়। শরীর গরম রাখতে কাঁপুনির সৃষ্টি হয়, যা বারবার পেশির সংকোচন-প্রসারণ ঘটিয়ে ব্যথার উদ্রেক করে। নমনীয়তা হ্রাস: শীতে পেশির শক্তি ও নমনীয়তা কমে যায়, ফলে সামান্য কাজ বা ব্যায়ামে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন: ঠান্ডার কারণে মানুষ নড়াচড়া কম করে। দীর্ঘ সময় বসে বা শুয়ে থাকলে পেশি দুর্বল ও শক্ত হয়ে ব্যথা তৈরি করে। স্নায়ুর সংবেদনশীলতা: ঠান্ডা তাপমাত্রা ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা বা সহনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্যথার প্রকোপ কমাতে ঘরোয়া সমাধান পেশির ব্যথা থেকে তাৎক্ষণিক আরাম পেতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১. শরীর উষ্ণ রাখা: শরীরের মূল অংশ (বুক ও পেট) সবসময় গরম রাখার চেষ্টা করুন। এতে পেশি শিথিল থাকে।
২. গরম সেঁক: ব্যথাযুক্ত স্থানে হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক দিয়ে সেঁক দিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং আরাম পাওয়া যায়।
৩. হালকা স্ট্রেচিং ও ম্যাসাজ: খুব ধীরে ধীরে হাত-পা নাড়াচাড়া বা স্ট্রেচিং করলে পেশির জড়তা কাটে। এছাড়া হালকা ম্যাসাজেও ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতিরোধের উপায়: নিজেকে রক্ষা করবেন যেভাবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। শীতের ব্যথা দূরে রাখতে মেনে চলুন এই পরামর্শগুলো:
স্তরে স্তরে কাপড় পরা: একটি খুব মোটা কাপড়ের চেয়ে কয়েকটি পাতলা বা ঢিলেঢালা কাপড় স্তরে স্তরে পরা বেশি কার্যকর। বাইরে যাওয়ার সতর্কতা: বাইরে বের হলে কানটুপি, মাফলার, গ্লাভস এবং জুতো-মোজা ব্যবহার নিশ্চিত করুন।
উষ্ণ ঘর: ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন এবং ঠান্ডা বাতাস ঢোকার পথ বন্ধ রাখুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস: পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন, কারণ ঠান্ডায় শরীর গরম রাখতে বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হয়। ওয়ার্ম-আপ: শীতে কোনো ভারী কাজ বা ব্যায়াম শুরু করার আগে শরীরকে ভালোভাবে ‘ওয়ার্ম-আপ’ করে নিন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
পেশির ব্যথা যদি অস্বাভাবিক তীব্র হয়, নিজে নিজে না কমে কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক হবে না। এর পেছনে অন্য কোনো জটিল রোগ (যেমন ফাইব্রোমায়ালজিয়া) আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সচেতনতা এবং সঠিক জীবনযাপনই পারে আপনাকে এই শীতের পেশির ব্যথা থেকে মুক্ত রাখতে।