
মোহাম্মদ নাসির মিয়া, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন হলুদের চাদরে ঢাকা। যেদিকে চোখ যায়, শুধু সরিষা ফুলের সমারোহ। চলতি মৌসুমে বাসাইল উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি অফিসের সঠিক দিকনির্দেশনায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাসাইল উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সরকার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ও সার বিতরণ করেছে। এবার মূলত বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বারি-২০ এবং বিনা-৯ জাতের সরিষা বেশি চাষ হয়েছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের পাশে সারি সারি মৌ-বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন ১৫-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে কৃষকরা একদিকে যেমন সরিষা বেশি পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধু বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন।বাসাইল পৌরসভার কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগে আমন কাটার পর জমি ফেলে রাখতাম। এখন কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সরিষা চাষ করছি। গাছে প্রচুর ফুল এসেছে, আশা করছি প্রতি বিঘা থেকে ৫-৬ মণ সরিষা পাবো। সরিষা তুলে নিয়ে আবার একই জমিতে বোরো ধান লাগাবো।”
বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুই-ই কম। মাত্র ৮০-৯০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে তেলের দাম বেশি হওয়ায় ঘরে উৎপাদিত সরিষা পরিবারের তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি মুনাফা দিচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাজাহান আলী বলেন, আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কম থাকায় কুয়াশাজনিত রোগবালাইয়ের প্রকোপ এবার কম। উপজেলা কৃষি বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধান, প্রশিক্ষন প্রদান, মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এ লক্ষমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। লক্ষমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১২০০০ মেট্রিক টনের অধিক সরিষা এবছর বাসাইলে উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে, যা থেকে কৃষকগণ লাভবান হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল জেলা বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরিষা উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে।