
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান,রাজশাহী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশের কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভায় রাজশাহী ছাড়াও নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কৃষক সমাজকে উপেক্ষা করে নেওয়া নীতির ফলেই উত্তরাঞ্চলের মানুষ আজ নানা সংকটে পড়েছে।তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বরেন্দ্র অঞ্চলের উন্নয়নের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রকল্প কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করা হবে, খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং পদ্মা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।পদ্মাপাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকার কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং এই অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাজশাহীতে একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার পথ পরিহার করতে চায়। তিনি বলেন, অকারণ সমালোচনা বা বিভাজনের রাজনীতি নয়, মানুষের জীবনমান উন্নয়নই বিএনপির প্রধান লক্ষ্য।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা একসময় ভোটাধিকার হরণ করেছিল তারা বিদায় নিয়েছে, তবে এখনো একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সত্য উদঘাটনে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।সমাবেশ শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার জন্য নেতাকর্মী ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি সর্বশেষ ২০০৪ সালে রাজশাহী সফর করেছিলেন।