
ফেনীর গণমাধ্যমে নতুন দিগন্ত: জাঁকজমক আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল সাপ্তাহিক ‘ভোরের ফেনী’
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
জেলা প্রশাসকের আশাবাদ—“বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় জনগণের আস্থা অর্জন করবে ভোরের ফেনী”; সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মিলনমেলায় উৎসবমুখর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
ফেনীর গণমাধ্যম অঙ্গনে নতুন সংযোজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে সাপ্তাহিক ‘ভোরের ফেনী’। শহরের গ্র্যান্ড সুলতানা সেন্টারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলার প্রশাসন, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সাপ্তাহিক ‘ভোরের ফেনী’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ‘ভোরের ফেনী’ পাঠকের আস্থা অর্জনে কাজ করবে। ফেনীর উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও মানুষের কথা তুলে ধরাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মিজ মনিরা হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি উন্নত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি ‘ভোরের ফেনী’ তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকের আস্থা অর্জন করবে এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
দৈনিক ফেনীর সময়-এর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, “বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সত্য ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা। নতুন এই পত্রিকাটি সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক বলেন, “গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। ‘ভোরের ফেনী’ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”
ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “তরুণ সমাজ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরলে পত্রিকাটি সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।”
যুবদলের সদস্য সচিব নাঈম উল্যাহ বরাত বলেন, “সত্য প্রকাশে সাহসী ভূমিকা এবং জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতার মাধ্যমেই একটি সংবাদপত্র দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা পায়। ‘ভোরের ফেনী’ সেই পথেই এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সিদ্দিক আল মামুন, দৈনিক আজকের কাগজের সম্পাদক, জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ফেনীর বাইরে অবস্থান করায় অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও শুভেচ্ছা বার্তায় অনেকেই নতুন এই পত্রিকার সাফল্য কামনা করেন। তারা বলেন, ফেনীর মানুষের সুখ-দুঃখ, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের গল্প তুলে ধরে ‘ভোরের ফেনী’ দ্রুতই পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নেবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা পত্রিকার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সাপ্তাহিক ‘ভোরের ফেনী’ পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবে দৈনিক আমার ফেনীর সম্পাদক রানা, বাংলা ভিশনের ফেনী জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, ডা. খুরশিদ আলম, ভিপি জাহিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্মরণীয় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন আলোকচিত্রী মিরাজুল মামুন।
স্লোগান
“সত্য ও সাহসের পথে এগিয়ে চলুক ভোরের ফেনী, জাগুক ফেনীর নতুন ভোর।”