
ঢাকার ধামরাই থানায় সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ নির্মূল, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রত্যয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এক বিশাল মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধামরাই থানা কম্পাউন্ডে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সভা সমাপ্ত করেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাবা শামীমা পারভীন শিল্পী।
সভায় বক্তারা ধামরাই থানা এলাকায় মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে। বিশেষ করে কিশোর অপরাধ বা ‘গ্যাং কালচার’ এবং মাদকের বিস্তার রোধে কেবল আইনি ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব। পুলিশিং কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও কার্যকর, গতিশীল এবং জনসম্পৃক্ত করার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ তমিজ উদ্দিন বলেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে টেকসই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো বিকল্প নেই। সরকার ধামরাইবাসীকে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পরিবেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না, সমাজের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি আরও বলেন, “অপরাধীরা সমাজেরই কোনো না কোনো অংশে লুকিয়ে থাকে। তাদের প্রতিরোধ করতে হলে সঠিক সময়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য আমি ধামরাইয়ের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
আস্থা ও অংশীদারীত্বের মাধ্যম কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাবা শামীমা পারভীন শিল্পী বলেন, “কমিউটি পুলিশিং কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা সেমিনার নয়। এটি মূলত জনগণ এবং পুলিশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অংশীদারীত্বের একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম। পুলিশ জনগণের শত্রু নয়, বরং সেবক ও বন্ধু। পুলিশ সুপার ধামরাইয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সাধারণ মানুষের দেওয়া তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকবে। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ধামরাই থানা চত্বরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি ধামরাইয়ের সর্বস্তরের মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নাজমুল হুদা খান। তিনি থানার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরাধ দমনে পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভি এবং ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে দল-মত নির্বিশেষে ধামরাইয়ের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত রাখতে এবং সব ধরনের সামাজিক অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও জনগণের যৌথ প্রয়াসের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন এবং পুলিশ প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যয় সভায় উপস্থিত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য তানিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ধামরাইকে একটি আদর্শ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকা থেকে মাদক ও জুয়ার আড্ডা উচ্ছেদ, কিশোরদের রাতে অহেতুক ঘোরাফেরা বন্ধ করা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। পরিশেষে, ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।