
নড়াইল প্রতিনিধি:
তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়েছে। নড়াইল জেলা প্রশাসন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আলোচনা সভা, কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রেষ্ঠ মাঠকর্মী ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র প্রদানের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ নড়াইলের উপ-পরিচালক আলিফ নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নড়াইলের সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিনা সাত্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান এবং পরিবার পরিকল্পনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার সেন।
অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হাবিব, নড়াইল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার নুসরাত জাহান, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রোজিনা খাতুন এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ জুয়েল ভূঁইয়া প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে না দেখে, তাদের উপযুক্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক বলেন, “আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের মূল চালিকাশক্তি। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে মূল্যায়ন করে সঠিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানামুখী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুর রশিদ বলেন, “একটি সুখী, স্বাস্থ্যবান এবং সমৃদ্ধশালী পরিবার গঠনে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার পরিকল্পনার বার্তা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।” অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিনা সাত্তার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান তাদের বক্তব্যে মাঠপর্যায়ের কাজের গুণগত মান বাড়ানোর তাগিদ দেন এবং বাল্যবিয়ে রোধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা মাঠপর্যায়ে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানান। আলোচনা সভা শেষে কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বছরের শ্রেষ্ঠ মাঠকর্মী এবং সফল প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত মাঠকর্মীরা এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং আগামীতে আরও গতিশীলভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, মাঠকর্মী, স্থানীয় সুধীসমাজ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি নড়াইলে পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।