
বিশেষ প্রতিবেদন
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া প্রায় ৮ একর ৬০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। জমি দখলের পাঁয়তারা, সীমানা লঙ্ঘন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধরের হুমকির ঘটনা উল্লেখ করে আটজনের নাম উল্লেখ করে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (জিডি আবেদন) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারী। গত ১ সেপ্টেম্বর (২০২৬) অনুষ্ঠিত একটি স্থানীয় সালিশি বৈঠকের পর এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী হালিমা খাতুন (৫০) কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের দরদরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, উপজেলার সাহাবদিয়ারকোট মৌজাস্থিত দরদরিয়া সাকিনে সিএস খতিয়ানভুক্ত ১০টি দাগে (৩০৭, ৪২৩, ৪২৭, ৪২৮, ৪৩০, ৪৩২, ৪০৫, ৪৯৫, ৪২৫ ও ৩৪২) মোট ৮ একর ৬০ শতাংশ জমি তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আইনকানুন অমান্য করে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিকটাত্মীয়দের উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা তোয়াক্কা করেনি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিতর্কিত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য অভিযুক্তদের আহ্বান জানান। কিন্তু অভিযুক্তরা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সালিশের কিছু সময় পর অভিযুক্তরা দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে কাপাসিয়া থানাধীন দরদরিয়া এলাকায় ভুক্তভোগী হালিমা খাতুনের বাড়ির সামনে গিয়ে চড়াও হয়।
এ সময় তারা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করতে উদ্যত হয়। উভয় পক্ষের মধ্যে চরম কথাকাটাকাটি হলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। থানায় লিখিত অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সবাই দরদরিয়া গ্রামের বাসিন্দা:
১. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩৭), পিতা—মৃত রিয়াজ উদ্দিন
২. ইমতিয়াজ উদ্দিন ওরফে ইন্তাজ (৫৫), পিতা—শাহাবুদ্দিন
৩. সিরাজ (২৬), পিতা—ইমতিয়াজ উদ্দিন ওরফে ইন্তাজ
৪. জসিম উদ্দিন ওরফে শাহজাহান (৫৫), পিতা—মৃত নায়ের আলী
৫. আবু সালেহ (৫০), পিতা—মৃত নায়ের আলী
৬. কারিজ উদ্দিন (৫৯), পিতা—মৃত নায়ের আলী
৭. মঞ্জুর (৪৫), পিতা—শাহাবুদ্দিন
৮. রেজাউল করিম ওরফে রাজু (৬০), পিতা—মৃত আমদদ আলী
ভুক্তভোগী হালিমা খাতুন জানান, অভিযুক্তরা চরম প্রভাবশালী ও বেপরোয়া প্রকৃতির। তারা যেকোনো সময় আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর বড় ধরনের শারীরিক হামলা বা রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটাতে পারে। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।
ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কাপাসিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগে উল্লেখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।