
মাস্টারপাড়াজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনা; পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার :
মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়ায় সংঘটিত আলোচিত চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও রহস্যের জট এখনো কাটেনি। চুরি হওয়া একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি কালো-লাল রঙের মোটরসাইকেল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একই ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এখনো উদ্ধার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোঃ সোহেল, পিতা: মোজাফফর মেস্তেরি, সাং: মাস্টারপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আলীকদম উপজেলার বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ২২ জুলাই ২০২৬ দিবাগত গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির সামনে রাখা ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। একই সময়ে ঘরের আলমারিতে সংরক্ষিত নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকাও নিখোঁজ হয়। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের অবহিত করলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় অন্তর (পিতা: আলী), সাং: উত্তর পালংপাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড, আলীকদম উপজেলার বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
অভিযুক্তের মায়ের সম্মতিতে তালাবদ্ধ একটি কক্ষ খুলে চুরি হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্তের মা উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি আলীকদম পানবাজার–থানচি মোটরসাইকেল সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আক্তার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন। সমিতির সভাপতি উপস্থিত সবার সামনে মোটরসাইকেলটি প্রকৃত মালিক মোঃ সোহেলের কাছে বুঝিয়ে দেন।
তবে একই ঘটনায় চুরি হওয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার এখনো উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্তের মা আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহার চেষ্টা করবেন এবং নিখোঁজ অর্থ ফেরতের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান না হলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত প্রতিকার চাইবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাস্টারপাড়া, উত্তর পালংপাড়া এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন চুরির অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল।
তাঁদের কেউ কেউ আরও দাবি করেন, তিনি একটি কথিত চুরি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, মোটরসাইকেল উদ্ধার হওয়া ইতিবাচক হলেও নিখোঁজ অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকে যাবে। তাঁরা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।