
জেলা পরিষদের উদ্যোগে আলীকদমে ৭০ কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ-বনজ চারা ও সার বিতরণ
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবুজায়নের উদ্যোগ; প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন
মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় কৃষির বহুমুখীকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আলীকদম উপজেলার ৭০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা এবং সার বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আলীকদম জেলা পরিষদ রেস্ট হাউস প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে চারা ও সার তুলে দেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী লেলিন চাকমা এবং আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা।
কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল আম্রপালি আম ৪০টি, চার প্রজাতির বনজ গাছের ২৮টি, পেয়ারা ১৪টি, লেবু ৭টি, কাজুবাদাম ১৩টি, জাম্বুরা ৪টি, কফি ১০টি, জাম ১০টি, মাল্টা ১৪টি, বেল ৯টি, কদবেল ১২টি এবং অতিরিক্ত ৪টি চারা।
এছাড়া পরবর্তী পর্যায়ে ৫টি কলার চারা বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। চারাগুলোর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উপকারভোগীদের মধ্যে ২৪ কেজি জৈব সার ও ১৭ কেজি রাসায়নিক সারও বিতরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নয়, বরং কৃষির টেকসই উন্নয়ন, মৃত্তিকার উর্বরতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি আয় বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদি ও পতিত ভূমিকে উৎপাদনমুখী সম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি সাইফুল ইসলাম রিমন বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। কৃষকের হাতে উন্নত জাতের ফলদ ও বনজ গাছের চারা পৌঁছে দিয়ে একদিকে যেমন সবুজায়ন সম্প্রসারিত হবে, অন্যদিকে পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি প্রত্যেক উপকারভোগীকে বিতরণকৃত চারাগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করে সেগুলোকে পরিণত বৃক্ষে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষকেরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী, জনকল্যাণমুখী ও কৃষিবান্ধব বলে অভিহিত করেন।
তারা বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি পার্বত্য অঞ্চলে ফলভিত্তিক কৃষির সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।