
বিশ্ব বন্ধু দিবস,সম্পর্কের বন্ধনে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্য
এম,এ,মান্নান,স্টাফ রিপোর্টার
মানবজীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও নিঃস্বার্থ সম্পর্কের একটি হলো ‘বন্ধুত্ব’। রক্ত বা পারিবারিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে যে মানুষগুলো সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ায়, জীবনকে করে তোলে আনন্দময়, তাদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানানোর দিনই হলো ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে বন্ধুত্ব উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হলমার্ক কার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা জয়সি হল ১৯৩০ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস উদযাপনের প্রস্তাব করেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও এটি তখন আন্তর্জাতিক রূপ পায়নি ১৯৫৮ সালের ৩০ জুলাই প্যারাগুয়েতে ড. রামোন আর্তেনিও ব্রাচো বন্ধুদের সাথে আড্ডার সময় প্রথম আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস পালনের ধারণাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে তারা ‘ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড’ প্রতিষ্ঠা করেন।২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রতি বছরের ৩০ জুলাই তারিখটিকে ‘আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস’ (International Day of Friendship) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।যদিও জাতিসংঘ স্বীকৃত আনুষ্ঠানিক তারিখ ৩০ জুলাই, তবে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে ঐতিহ্যগতভাবে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালন করা হয়ে থাকে।বর্তমান বিশ্বে বর্ণবাদ, হিংসা, বৈষম্য ও সংঘাতের মধ্যে বন্ধুত্ব কেবল দুজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো অনুভূতি নয়; এটি একটি বিশ্বজনীন সেতু।ভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জাতীয়তার মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বে সহিংসতা হ্রাস পায় এবং সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।বন্ধুত্বের সম্পর্ক মানুষের একাকীত্ব দূর করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।তরুণদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহনশীল ও মানবিক করে গড়ে তোলা সম্ভব।তরুণদের মধ্যে একে অপরকে রঙিন ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড পরাণোর সংস্কৃতি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া ফুল, কার্ড ও উপহারের আদান-প্রদান করা হয়।পুরনো বা নতুন বন্ধুদের সাথে কোথাও একসঙ্গে খেয়ে, ঘুরে বা আড্ডা দিয়ে সময় কাটানো হয়।ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে পুরানো স্মৃতি শেয়ার করা এবং শুভেচ্ছাবার্তা আদান-প্রদান করা হয়।বন্ধুত্বের কোনো নির্দিষ্ট দিন বা সীমানা নেই, প্রতিটি দিনই বন্ধুদের ভালো রাখার দিন। তা সত্ত্বেও, যান্ত্রিক এই জীবনে বিশ্ব বন্ধু দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় সম্পর্কের মূল্য, ভালোবাসা এবং মানবিক বন্ধনের গুরুত্বকে। প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্তত একজন প্রকৃত বন্ধু থাকুক, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক সৌহার্দ্য ও শান্তির বাণী—এটাই বন্ধু দিবসের মূল বার্তা।