
ফুলবাড়ীয়ায় নিখোঁজ কাস্টমস কর্মকর্তার বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
মোঃ মাহবুবুল আলম বিভাগীয় ব্যুরো ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত রায়হান তালুকদারের বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে ব্যাগ ও বস্তার ভেতরে থাকা মরদেহের বিভিন্ন খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২৪ জুলাই থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে আসছিলেন। এ সময় বাড়ির পাশের পুকুরে সন্দেহজনক একটি বস্তা ও ব্যাগ ভাসতে দেখে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে বস্তা ও ব্যাগ খুলে মরদেহের ১৫ টি খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রায়হান তালুকদার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত ছিলেন। গত ২৩ /০৭/২০২৬ ইং তারিখে তিনি প্রতি সপ্তাহের ন্যায় বাড়িতে আসেন।২৬/০৮/২০২৬ ইং তারিখে কর্মস্থল ঢাকার কমলাপুরে ফেরার কথা থাকলেও ঐ দিন তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। বিষয়টি তার পরিবারকে অবগত করা হলে রায়হানের বাড়ির কেয়ার টেকার রাজুর কাছে পরিবারের লোকজন তার সন্ধান জানতে চায়।রাজু তাদের কে জানায় যে ২৬/০৭/২০২৬ ইং তারিখে স্থানীয় কাহালগাও বাজার পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে। রায়হানের সন্ধান না পেয়ে ২৭/০৭/২০২৬ ইং তারিখে ফুলবাড়ীয়া থানায় জিডি করা হয়।২৮/০৭/২০২৮ ইং তারিখে রাজু রায়হানের বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।এরি মাঝে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অনন্তপুরে বাজুয়া নদী থেকে রায়হানের ব্যবহৃত চাবির ছড়া উদ্ধার করে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ।এর পর থেকে রায়হানের সন্ধান পেতে জোরালো অনুসন্ধান চালায় পুলিশ। ২/০৮/২০২৬ ইং তারিখ সকাল ১০টায় ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোঃ রাশেদুল হাসান রায়হানের বাড়ি পরিদর্শনে আসেন। তিনি এ সময় তিনি বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য জানেন।চলে যাওয়ার পূর্বে তিনি বাড়ির লোকজনকে বাড়ির চারি পাশে সন্ধান করার পরামর্শ দেন। দুপুর দুইটার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত পুকুরে কয়েকটি ব্যাগ দেখতে পান যা থেকে প্রচন্ড দূগন্ধ ছড়াচ্ছিল। বিষয়টি ফুলবাড়ীয়া থানায় অবগত করা হলে বিকেল তিনটায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় চারটি ব্যাগ পুকুর থেকে উপরে উঠায়।ব্যাগ গুলোর ভিতর থেকে একটি লাশের ১৫ টি খন্ড বের করে।এসময় লাশের মূখ থেতলানো অবস্থায় পাওয়া যায়।পরে পরিবারের লোকজন ব্যাগ, বিছানার চাদর দেখে রায়হানের লাশ সনাক্ত করে।তার এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ফুলবাড়ীয়া থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।