
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষকদের
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: মোঃ জলিল বিশেষ প্রতিনিধি বরিশাল বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ। স্থানীয় একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিটিতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের ত্রি-বার্ষিক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অনুমোদিত কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে ১২০ নম্বর পূর্বভূতেরদিয়া দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালামকে। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ১২৪ নম্বর কুমারিয়ারপিট জাহিদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনোয়ার হোসেনকে।
নতুন কমিটি নিয়ে আপত্তি জানানো শিক্ষকদের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের সব শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অতীতে উপবৃত্তির অর্থ সংক্রান্ত অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অন্যান্য অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা চলছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সাধারণ সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে অনিয়ম অর্থ কেলেঙ্কারি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, “কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে উপজেলার সব শিক্ষকের মতামত ও অংশগ্রহণ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা মনে করছি, তা যথাযথভাবে হয়নি। আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও শিক্ষকদের সম্মতির ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ কমিটি চাই।”
শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কার রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং কমিটি গঠনে রাজনৈতিক বিবেচনা কতটা প্রভাব ফেলেছে—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেনের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষকদের দাবি, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে তারা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ও সম্মতির ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষকরা।