
হুমকির মুখে মনপুরার স্বপ্নের বেড়িবাঁধ, জবাবদিহি করবে কি পানি উন্নয়ন বোর্ড?
বিশেষ প্রতিনিধি: ইমন রহমান
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি টেকসই বেড়িবাঁধ। উপকূলের মানুষকে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কবল থেকে রক্ষায় প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই মেগা প্রকল্প। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে বাঁধের ক্ষয়, ধস এবং ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠেছে—কাজের মান, তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক অতি জোয়ার ও ভারী বর্ষণে বাঁধের কয়েকটি অংশে ফাটল, মাটি ধসে যাওয়া এবং ঢাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও জিওব্যাগ সরে গেছে বলেও দাবি তাদের। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল মনপুরাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিরাপদ রাখা। কিন্তু নির্মাণকাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। এখন প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকির মুখে পড়ায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এদিকে সম্প্রতি অতি জোয়ারে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মনপুরার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জোয়ার ও টানা বর্ষণের কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বড় ব্যয়ের একটি প্রকল্পে কোথাও নির্মাণগত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কার এবং প্রকল্পের মান নিয়ে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মনপুরার এই স্বপ্নের বেড়িবাঁধ যদি প্রকৃতির প্রথম বড় পরীক্ষাতেই ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে এর দায় নেবে কে? নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা অবহেলা থেকে থাকলে তার জন্য কি পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জবাবদিহির আওতায় আসবে?
উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির প্রতিটি অংশের মান যাচাই, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন মনপুরাবাসী।