
এক ফোঁটা রক্তে বাঁচতে পারে প্রাণ, দুর্গাপুরে রক্তযোদ্ধাদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
মোঃ শাহিনুর রহমান আকাশ
স্টাফ রিপোর্ট রাজশাহী
মানবতার সেবায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রক্ত দিলে হয় না ক্ষতি, রক্ত দিব চার মাস প্রতি’—এমন স্লোগানকে সামনে রেখে দুর্গাপুর রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুর্গাপুরের দুরন্ত মডেল একাডেমিতে আয়োজিত এ ক্যাম্পেইনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা ও মানবিক গুরুত্ব তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
রক্ত মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার কিংবা বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় জরুরি মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সময়মতো উপযুক্ত রক্তদাতা পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগে থেকেই নিজের রক্তের গ্রুপ জানা এবং প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার মানসিকতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দুর্গাপুর রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে রক্তদানসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রক্তদানে আগ্রহী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করা এবং রক্তের প্রয়োজনে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবক পারভেজ মনি, দুরন্ত মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. স্বপন আহমেদ, উপজেলা বিডি ক্লিনের সমন্বয়ক আঃ করিম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মাহাবুর রহমান শরীফ, ফেসবুক অ্যাক্টিভিস্ট ফয়সাল কবির, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষক ইমামুল হাসাম এবং দুর্গাপুর রক্তযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের সদস্য মো. অনিক।
এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা উপস্থিত থেকে এ উদ্যোগে অংশ নেন।
এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রক্তদানের বিষয়ে প্রচলিত ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করে মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মানবতার সেবায় রক্তদানের বিকল্প নেই। একজন সচেতন রক্তদাতা হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসা সম্ভব। তাই রক্তের গ্রুপ জানা, রক্তদানে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন