
`শিক্ষক যখন সাংবাদিক – ২য় পর্ব
কলম যখন পাঠশালা হয়ে ওঠে`
> এস এম মাহমুদুল করিম হাশেমী
লামা (বান্দরবান) উপজেলা প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদন।
প্রথম পর্বে আমরা বলেছিলাম, শিক্ষক যখন সাংবাদিক হন, তখন সমাজ আলো পায়। আজ দ্বিতীয় পর্বে আমরা বলবো, সেই আলো কিভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
একজন সাধারণ রিপোর্টার একটি ঘটনার সংবাদ লেখেন। আর একজন শিক্ষক-সাংবাদিক একটি ঘটনার ভেতরের শিক্ষাটা তুলে ধরেন। পার্থক্যটা এখানেই। একজনের লেখায় থাকে শুধু “কি ঘটেছে”, অন্যজনের লেখায় থাকে “কেন ঘটেছে এবং এ থেকে আমাদের কি শেখা উচিত”।
আমাদের সমাজে আজ যে অস্থিরতা, যে শ্রদ্ধাহীনতা, তার মূল কারণ হলো তথ্যের সাথে শিক্ষার বিচ্ছেদ। আমরা খবর পাচ্ছি, কিন্তু জ্ঞান পাচ্ছি না। একজন শিক্ষকই পারেন এই বিচ্ছেদ দূর করতে।
`শিক্ষক-সাংবাদিক সমাজকে কী দেন`?
১. তিনি খবরকে বেয়াদব বানান না, আদব শেখান: আজ অনেক সংবাদে ভাষার যে বিকৃতি, শিরোনামে যে উগ্রতা, তা দেখে লজ্জা লাগে। একজন শিক্ষক কখনো চটকদার শিরোনামের জন্য শালীনতা বিসর্জন দেবেন না। তার প্রতিটি শব্দ হবে মার্জিত, পরিশীলিত।
২. তিনি বিরোধ তৈরি করেন না, বোধ তৈরি করেন: কিছু অপসাংবাদিকতার কাজই হলো শিক্ষকের সাথে পাঙ্গা নিয়ে, একটি প্রতিষ্ঠানকে হেয় করে ভাইরাল হওয়া। আর শিক্ষক-সাংবাদিকের কাজ হলো, একটি সমস্যাকে তুলে ধরে তার সুন্দর সমাধানের পথ দেখানো। তিনি সমাজে বেয়াদবের জন্ম দেন না, তিনি আদর্শ ছাত্রের জন্ম দেন।
৩. তিনি ক্রাইম নয়, মানবিকতা খোঁজেন: ক্রাইম রিপোর্টিং এর নামে শিক্ষককে হয়রানি করা সহজ, কিন্তু একটি শিশু কেন অপরাধী হলো, সেই গভীরে যাওয়া কঠিন। শিক্ষক-সাংবাদিক সেই কঠিন কাজটিই করেন। তিনি অপরাধী নয়, অপরাধের কারণ খোঁজেন।
তাই আমরা মনে করি, প্রতিটি উপজেলায় যদি অন্তত ১০ জন শিক্ষক সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন, তাহলে—
– মিথ্যা সংবাদের দৌরাত্ম্য কমবে
– ভাষা দূষণ বন্ধ হবে
– শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক নিউজ বন্ধ হবে
– এবং সাংবাদিকতা আবার পবিত্র পেশা হিসেবে সম্মান ফিরে পাবে।
আসুন, আমরা শিক্ষকদের কলমকে ভয় না পেয়ে, বরণ করে নিই। কারণ যে জাতি তার শিক্ষককে সম্মান দেয় না, এবং শিক্ষকের কলমকে ভয় পায়, সে জাতি কখনো আলোর মুখ দেখতে পারে না।
শিক্ষকের হাতে বেত যেমন মানায়, তেমনি মানায় কলমও। বেত মানুষকে শাসন করে, আর কলম মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করে।
> সাথে থাকুন, ধন্যবাদ।
> *আসছে ৩য় পর্ব…*