
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে রাজশাহীতে শহীদ সাকিব আনজুমের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
অপু দাস,রাজশাহী ব্যুরো।
রাজশাহীতে মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব আনজুমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া গোরস্থানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টায় শহীদ সাকিব আনজুমের কবর জিয়ারত করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন এবং শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা মো. মাইনুল হক। এ সময় তাঁরা শহীদের কবরের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
পরে শহীদ সাকিব আনজুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী কালেক্টরেট মসজিদের খতিব মাওলানা মো. নাজমুল ইসলাম। মোনাজাতে শহীদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেশ, জাতি এবং জনগণের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের স্মৃতি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তাঁরা মত প্রকাশ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা, বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুঈদুর রহমান মঈদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ সাকিব আনজুমের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা শহীদদের আদর্শ ও ত্যাগের চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।