
শেষ সময়ে ভাংগারহাটে লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রয় জমজমাট
নৃপেন হালদার, কোটালীপাড়া,গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়ায় ভাংগারহাট বাজারে শেষ সময়ে লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রির হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে। দুর্গাপূজার বিজয় দশমীর পরদিন থেকে ভাংগারহাট, নৈয়ারবাড়ি,পিড়ারবাড়ি,রাধাগঞ্জ,কালিগঞ্জ,ঘাঘর, কুশলাসহ প্রায় ৩০ টা স্থানে বসেছে এই প্রতীমা বিক্রির হাট। সনাতন ধর্মলম্বিরা এসব হাট থেকে পূজার জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন লক্ষ্মী প্রতীমা। রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে সোমবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত এ পূজা অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। কালিকাবাড়ি গ্রামের দিলিপ পাল দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশকে বলেন, কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রায় ৩০ টা স্থানে শতশত বছর ধরে এই লক্ষ্মী প্রতীমার হাট বসে আসছে। আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এসব হাটে প্রতীমা বিক্রি করে আসছে। আমরাও এখন প্রতীমা তৈরি করে এসব হাটে বিক্রি করি। এখানে প্রতিটা হাটে আমাদের নির্মিত প্রতীমা বেশ বিক্রি হয়। বহরাবাড়ি গ্রামের সুব্রত পাল বলেন আমাদের অঞ্চলের সনাতন ধর্মলম্বিদের প্রতিটা ঘরেঘরে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ কারনে প্রতিটা হাটে ব্যাপকভাবে প্রতীমা বিক্রি হয়। টিকরীবাড়ি গ্রামের প্রতীমা ক্রেতা নারায়ন সেন বলেন, এ অঞ্চলে আমরা যারা সনাতন ধর্মলম্বি রয়েছি তারা সবাই ধন দেবী লক্ষ্মীর পূজা করি। লক্ষ্মী দেবী তুষ্ট হলে ধন, সম্পদ ও ফসলে পরিপূর্ন হয়ে উঠবে আমাদের ঘর। পরিবার থেকে অভাব অনাটন দুর হয়ে যাবে। তাই ছোটবেলা থেকেই ভাংগার বাজার থেকে লক্ষ্মী প্রতীমা কিনে এই পূজা করে আসছি। কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রতিটা ঘরে ঘরে কোজাগরি লক্ষ্মী পূজার উৎসব হয়। এ পূজাকে কেন্দ্র করে ৫/৬ দিন আগ থেকে,উপজেলার প্রায় ৩০ টি স্থানে লক্ষ্মী প্রতীমার হাট বসে। এসব হাটে উৎসবমুখর পরিবেশে লক্ষ্মী দেবীর ভক্তরা প্রতীমা কেনাকাটা করে। এ সকল ঐতিহ্যবাহী প্রতীমার হাটগুলো শত শত বছর টিকে থাকবে বলে আমি মনে করি।