
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেন নিয়ামতপুর উপজেলা প্রশাসন
এম এ মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করা হয়।
দিনের শুরুতেই সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী বাংলার বীর সন্তানদের স্মরণে উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ মুরশিদা খাতুন এবং নওগাঁ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পুরো পরিবেশে ছিল এক আবেগঘন ও শ্রদ্ধাময় আবহ।
সকাল ৯টায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। স্কুল, কলেজ, স্কাউটস, গার্লস গাইড এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দলসমূহ শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ মুরশিদা খাতুন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে ছিল দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, রচনা লেখা এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
কুচকাওয়াজ শেষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা স্বাধীনতার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশ গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী পর্ব হিসেবে সন্ধ্যা ৭টায় তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য, নাটিকা এবং আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা গভীর আগ্রহ ও উৎসাহের সাথে উপভোগ করেন।
সব মিলিয়ে, নিয়ামতপুর উপজেলায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসটি ছিল একদিকে যেমন শ্রদ্ধা ও স্মরণের, তেমনি আনন্দ ও গৌরবের এক অনন্য মেলবন্ধন। দিনব্যাপী এসব আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা আরও সুদৃঢ়ভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়।