
হারাধন চক্রবর্তী,স্টাফ রির্পোটার,
মীরসরাই উপজেলায় হাইতকান্দি ইউনিয়নে কমর আলী বাজারে কমরআলী মডেল মেডিকেল হল এ উদ্যোগে ১লা বৈশাখ উপলক্ষে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল এন্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সৌজন্যে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পটি সকাল ৯টা হতে দুপুর ১পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পটিতে জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শরিফুল ইসলাম,এমবিবিএস,সিসিডি রোগী দেখেন।সহযোগিতা করেন সহকারী ক্যাম্প কোর্ডিনেটর নিশাদ। ক্যাম্পটির মাধ্যমে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৮৫ জনকে সেবা দেয়া হয়। এসব রোগীদের মধ্য থেকে প্রয়োজন অনুসারে অতি দরিদ্রদেরকে স্বল্প মূল্যে হাসপাতালে ছানি ও নেত্র নালী অপারেশনের সুযোগ দেওয়া হয়। আজকের ক্যাম্পটিতে মুরাদ পুর থেকে আসা শাহানা আক্তার ও চোখ দেখান । ক্যাম্পটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনায় সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন মাকেটিং ম্যানেজার মো: কামরুল, মো: মারুফ অরগানাইজার নিকাশ দে, মাকেটিং অফিসার নাঈম উদ্দিন। জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল এন্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক লো- ভিশন বিশেষজ্ঞ জনাব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন আসুন আলো ছড়াই সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা এ প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমাদের যাত্রা।আমি আপনাদের সন্তান। আপনাদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো।তাই আমার দরকার আপনাদের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা।আপনাদের সহযোগিতা পেলে এই প্রতিষ্ঠান অনেক দূর এগিয়ে যাবে।আমি মীরসরাই উপজেলার ৭নং কাটাছরা ইউনিয়নের পূর্ব কাটাছরা গ্রামের আমান উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ীর সন্তান।দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং আমার এলাকার জনসাধারণ কে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের আন্তরিক ইচ্ছা থেকেই জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল এন্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করি।সেই লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের ১৬ ই ফেব্রুয়ারি থেকে প্রাথমিক ভাবে আমার বাড়ির দোতলায় স্বল্প বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান শুরু করি। এই প্রতিষ্ঠানটি আমার পিতা মরহুম আবুল কাশেম ভূঁইয়া এবং মাতা আনোয়ারুল নেসা- এর নামে ” কাশেম – আনোয়ারা ফাউন্ডেশন ” কর্তৃক পরিচালিত।আামাদের মূল লক্ষ্য – গ্রাম ও মফস্বলের মানুষের কাছে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া।গ্রামের অনেক মানুষ সামর্থ্য থাকার সত্ত্বেও সময় দূরত্ব বা সহায়তায় অভাবে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না।বিশেষ করে মধ্যবিত্ত,নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের সেই কষ্ট লাঘব করতেই “জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল এন্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।আমাদের উদ্দেশ্য হলো সকল ধরণের চক্ষু চিকিৎসা ও অপারেশন সর্বসাধারনের জন্য নিশ্চিত করা।তারই প্রেক্ষিতে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি,সেখানে চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি সাধারণ রোগীর চিকিৎসা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা,ডায়াবেটিক কেয়ার, টিকাদান,খৎনা সেন্টার, নাক কান ফোড়ানো সহ প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্য সেবা এক ছাদের নিচে সহজে পাওয়া যাবে।হাসপাতালে কম্পিউটারে চক্ষু পরীক্ষা,কম্পিউটার কর্তৃক চক্ষু চিকিৎসা ও সেলাই বিহীন/ ফ্যাকো অপারেশন করা হয়।জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতাল এন্ড স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পূর্ব কাটাছরা, আমান উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ী সংলগ্ন দূর্গাপুর বাজার / স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।ডা: শরিফুল ইসলাম বলেন আমরা ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা করন,চোখের ছানি সংক্রান্ত রোগী, চোখের যাবতীয় রোগের চিকিৎসা করি।আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সাধারন জনসাধারণ জন্য এ ক্যাম্পে আয়োজন করা হয়েছে।দেশের বহু মানুষ চোখের নানা ধরনের দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন কিন্তু অনেকেই অর্থাভাবে চক্ষু চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তাই আমরা সর্ব সাধারনের জন্য ফ্রী চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছি।এ আয়োজনে সবশ্রেনীর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামীতে এ ধরনের কার্যক্রম আরো অনুষ্ঠিত হবে।ক্যাম্পে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলেন দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ ও পাক্ষিক খবরিকা প্রতিনিধি হারাধন চক্রবর্তী ।