
নিরাপত্তা ছাড়াই ব্রিজ ভাঙা: ক্ষেত্রীপাড়ায় একের পর এক দুর্ঘটনা, দায় এড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ
মোঃ আজাদ হোসেন নিপুঃ-
জামালপুর জেলা প্রতিনিধি।।
জামালপুর সদর উপজেলার ১৫ নং রশিদপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ক্ষেত্রীপাড়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক সেতু (ব্রিজ) কোনো ধরনের বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু ভাঙার পর থেকে বিশেষ করে রাতের বেলায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে ফেলা সেতুর একপাশে স্থানীয় জনগণ নিজেদের উদ্যোগে কয়েকটি বাঁশ বেঁধে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এছাড়া রাস্তার ওপর খড়-কুটো ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে চলাচলকারীদের সতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা যানবাহনের চালকরা বিষয়টি আগে থেকে বুঝতে না পারায় অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতু ভাঙার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মতো ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে রাতের অন্ধকারে, যখন ভাঙা অংশটি দূর থেকে সহজে বোঝা যায় না। এতে আহত হওয়ার পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজন হয়, তাহলে আগে বিকল্প রাস্তা বা নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলো না কেন? কেন সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, লাল বাতি, ব্যারিকেড কিংবা নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়নি?
ঘটনার বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেতুটি তাদের অধীনে নয়; এটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণেই সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।