
রৌমারীতে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া, কয়েকটি পরিবারের ভোগান্তি
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা গ্রামে চলাচলের একটি পুরাতন রাস্তা বাঁশের খুঁটি ও টিন দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাঁতভাঙ্গা গ্রামের আবু জাহানের ছেলে হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, গত ২৯ মে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি পরিবারও চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর বাঁশের খুঁটি ও টিনের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ওই পথ দিয়ে মানুষের চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছিলেন এবং এটি তাদের বসতবাড়িতে যাতায়াতের প্রধান পথ।
হারুন অর রশিদ জানান, “আমার রেকর্ডভুক্ত বসতভিটা ও আবাদি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে শফিকুল ইসলাম, শাহজাহান, আব্দুল খালেক, আব্দুর রশিদ, মাইদুল ইসলাম, মাফুজল হক, শহীদসহ কয়েকজন দলবদ্ধভাবে এসে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে পুরাতন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এতে আমাদের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের আব্দুর রশিদ বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব জমির মধ্যে বেড়া দিয়েছি। ওরাও তাদের জমিতে বেড়া দিয়েছে। কারও চলাচলের রাস্তা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়নি।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে যে কোনো সময় বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।