
মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার
হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আজ আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী, আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মোহাম্মদ হানিফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বান্দরবান প্রতিনিধি ডা. মো. ইশতিয়াক। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা হাম আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চলমান চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এসব দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে গঠিত বিশেষ মেডিকেল টিমকে সঙ্গে নিয়ে সকাল প্রায় ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বান্দরবান সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কুরুকপাতা–পোঁয়ামুহুরী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
জানা গেছে, সফরকালে কর্মকর্তারা কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করবেন। একই সঙ্গে নতুন করে রোগী শনাক্ত, আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে গঠিত বিশেষ মেডিকেল টিমে রয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ হাসান, মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম। নার্সিং স্টাফ (ব্রাদার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রিতেন চাকমা, সলিল মল্লিক এবং মো. মামুনুর রশিদ। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিমটি দুর্গম এলাকায় নতুন রোগী শনাক্ত, চিকিৎসা প্রদান, ওষুধ বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তারা কয়েকদিন ওই এলাকায় অবস্থান করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানান। সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।