
মোঃ হিরা মিয়া
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছেন না জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন ভূঁইয়া। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল রাজপথে নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ইউনিয়নের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ৫ই আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলামিন খুরশিদ ও তার একটি কুচক্রী মহল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রিপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বানোয়াট ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় রিপন ভূঁইয়া দীর্ঘ ৮ মাস কারাবরণ করেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০-০৪-২০২৬ তারিখে মহামান্য জজ কোর্ট এক আদেশে মিজানুর রহমান রিপন ভূঁইয়াকে পুনরায় তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু আদালতের সেই আদেশ জারির ১০ দিন অতিবাহিত হলেও স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। আদালতের অবমাননা করে কেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তার কার্যালয়ে বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা মেম্বার আলামিন খুরশিদের নৈতিকতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলামিন মেম্বারের একটি বিতর্কিত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে ধানের ক্ষেতে বসে বিদেশি মদের বোতল হাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মোবাইল চালাচ্ছেন তিনি। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির এমন কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে লজ্জিত পুরো ইউনিয়নবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূলত নিজের মাদক ব্যবসা ও অপকর্ম আড়াল করতেই আলামিন মেম্বার প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে জনপ্রিয় চেয়ারম্যানকে সরিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
গতকাল শিমুলকান্দির সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রিপন ভূঁইয়া কোনো দলীয় দাপটে নয়, বরং তার সততা ও ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ষড়যন্ত্র করে তাকে জনসেবা থেকে দূরে রাখা যাবে না। এলাকাবাসীর দাবি আলামিন খুরশিদের মতো নীতিহীন মেম্বারের উস্কানিতে আদালত অবমাননা করা বন্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে মিজানুর রহমান রিপন ভূঁইয়াকে তার পদে বহাল করতে হবে।
আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শিমুলকান্দি ইউনিয়নবাসী এখন কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।