
পিতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ: সরকারি ভাবে ‘নাদাবী’ দাবি প্রবাসী আইয়ুব খানের
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
সৌদি প্রবাসীর দাবি—নিজের উপার্জনের টাকায় নির্মিত বসতঘরসহ সম্পত্তি দুই ভাইয়ের নামে হেবা, প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরডুব্বা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আইয়ুব খান অভিযোগ করেছেন, তার দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থে অর্জিত ও উন্নয়ন করা সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে তার পিতা সুজল হক পরিবারের অন্য দুই ছেলের নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিখিত অভিযোগে আইয়ুব খান জানান, তিনি সুজল হক ও খতিজা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে তিনি পিতার তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন এবং পরবর্তীতে পিতার সম্মতিতেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তার দাবি, তিনি ও তার চার ভাই-বোন সুজল হকের বৈধ সন্তান।
আইয়ুব খানের ভাষ্যমতে, জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ নিয়মিত পিতার কাছে পাঠাতেন। তার দাবি, সেই অর্থ দিয়ে তার পিতা প্রায় ৪৫ শতক জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে পারিবারিক প্রয়োজনে তাকে যৌথ পরিবার থেকে পৃথকভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং গত প্রায় এক দশক ধরে তিনি নিজ উপার্জনে পরিবার পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজের উপার্জনের অর্থে তিনি তিন তলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট একটি ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার পিতা সুজল হক নিজের নামে থাকা প্রায় ৯৪ শতক সম্পত্তি এবং তার বসবাসরত পাকা ভবনসহ অন্যান্য সম্পত্তি দুই ছেলে জয়নাল ও আলমগীরের নামে হেবা দলিলের মাধ্যমে লিখে দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সম্পত্তি হস্তান্তরের কিছুদিন পর তার দুই ভাই বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন। বিষয়টি জানার পর তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম সোনাগাজী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে ঘর বুঝিয়ে দেয়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
আইয়ুব খান দাবি করেন, পরে তিনি স্থানীয়ভাবে জানতে পারেন যে তার পিতা তাকে ‘নাদাবী’ (সম্পর্ক অস্বীকার) করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং পুরো ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন।
তিনি বলেন, “আমি আমার উপার্জনের অর্থে ঘর নির্মাণ করেছি। অথচ সেই ঘরসহ সম্পত্তি অন্যদের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে। যদি আমার পিতা আমাকে সন্তান হিসেবে অস্বীকার করতে চান, তাহলে তিনি যেন সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারি প্রক্রিয়ায় তা করেন।”
এ বিষয়ে আইয়ুব খান ফেনী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং মানবাধিকার ও আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলোর কাছে লিখিত আবেদন জানানোর কথা উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুজল হক কিংবা অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
(বিঃদ্রঃ: প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীর লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।)