
দোয়ারাবাজারে বাজিতপুরে কবরস্থানের ওপর গড়ে ওঠা ‘আস্তানাঘর’ উচ্ছেদের দাবি।
সাইফুল আলম।
প্রতিনিধি: দোয়ারা বাজার উপজেলা সুনামগঞ্জ।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে মসজিদের সম্পত্তিতে থাকা কবরস্থানের ওপর সম্প্রতি গড়ে তোলা একটি ‘আস্তানাঘর’ আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বাজিতপুর গ্রাম ও শ্যামলবাজার (বান্দেরবাজার) এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দোয়ারাবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, বাজিতপুর গ্রামের মসজিদের সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি কবরস্থান রয়েছে, যা পাকা ও কাঁচা দুই রাস্তার মাঝখানে বেতঝোপের ভেতরে অবস্থিত। স্থানটি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথের পাশে বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় গয়াছ মিয়া নামের এক ব্যক্তি ওই স্থানে আস্তানাঘর নির্মাণ শুরু করেন। বাধা দিলে তিনি উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং নিষেধ উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ওই ব্যক্তি দিন-রাত ঘাট, বাজার ও রাস্তায় ধারালো দেশীয় অস্ত্র বহন করেন এবং তাঁকে ঘিরে মাদক কারবার, জুয়াসহ নানা সমাজবিরোধী তৎপরতা গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সম্মেলনে দাবি করা হয়, ভয়ে স্কুল-মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই পথ এড়িয়ে চলে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা-সংক্রান্ত অভিযোগও তুলে ধরা হয়; এ তথ্য থানার রেকর্ডে আছে বলে বক্তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, পুরো এলাকা আতঙ্কগ্রস্ত। তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় আস্তানা উচ্ছেদ করে মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধার, পবিত্র কবরস্থানের হেফাজত এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী ক্যাম্পেও পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযুক্ত গয়াছ মিয়ার কাছে এসবের সত্যতা জানতে (01717298825) তার ব্যক্তিগত মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেছেন, এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।