
এতিম ও অসহায় মেয়েদের স্বপ্নপূরণের ঠিকানা নকলার ‘হাবিবে জান্নাত’ মহিলা এতিমখানা
মোঃ জহিরুল ইসলাম
জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর
বাবা-মায়ের স্নেহ-ছায়াহীন ও অসহায় মেয়েদের নিরাপদ আশ্রয়, ইসলামি শিক্ষা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে শেরপুরের নকলা উপজেলার হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানা।
শুধু আশ্রয় নয়, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও সার্বিক পরিবেশের খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ঘুরে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, নিরাপদ ও নিরিবিলি পরিবেশে এতিম ও অসহায় মেয়েদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। এখানে নূরানী, নাজেরা, হিফজ ও কিতাব শাখায় পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি মিশকাত জামাত পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৫ জন এতিম, ৫৩ জন দুস্থ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৩০০ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসনের পাশাপাশি তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটির ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে ভবনটির নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে আরও কাজ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ভবনের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একটি শিশুকে শুধু আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়, তার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তোলাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
একটি নিরাপদ আশ্রয়, একটু ভালোবাসা এবং মানসম্মত শিক্ষা,এই তিনটি বিষয়ই বদলে দিতে পারে একজন অসহায় শিশুর জীবন। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ও সমাজের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে হাবিবে জান্নাত মহিলা এতিমখানার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং এখানকার মেয়েরা একদিন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে,এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের।