শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
Title :
সর্দি-কাশি প্রতিরোধে যেসব মৌসুমি ফল খাবেন মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের সতর্কসংকেত রাজশাহীতে ‘অপ-সাংবাদিকতা’ বন্ধে ব্যবস্থা চেয়ে ভূমিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার নকলায় উলামা ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠন লৌহজংয়ে ডিবির অভিযানে ১০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৪ বাসাইলে নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাজমিস্ত্রির মৃত্যু মীরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ ও সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চূড়ান্ত, নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ বাড়ৈগাঁও ‘মরহুম পিন্টু ও জাহিদ স্মৃতি মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত

গোবিন্দগঞ্জে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার, বছর না যেতেই ধস

  • Update Time : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৬৪ Time View

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি ঃ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের কামারপাড়া হয়ে দক্ষিণ কোচাশহর পর্যন্ত ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হলেও পর্যাপ্ত প্যালাসাইডিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কটি ধসে যাচ্ছে। ভারি যানবাহন চলাচলে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে সড়কটির বড় একটি অংশ।

সচেতন মহল বলছেন, সড়ক নির্মাণে সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় বছর না যেতেই সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই একই সড়ক বারবার সংস্কার করতে হয়। এতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ খরচের পাশাপাশি বাড়ছে জনদুর্ভোগ।

জানা গেছে, উপজেলার কোচাশহর এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে কামারপাড়া-দক্ষিণ কোচাশহর সড়কটির সংস্কার কাজ শেষ করে এলএলএম এন্টারপ্রাইজ। অথচ সড়কটির দরপত্র ও ব্যয় প্রাক্কলনে কার্পেটিং এর পাশাপাশি প্যালাসাইডিং ও ইউড্রেনের কথা উল্লেখ থাকলেও তা নির্মাণ করা হয়নি। ৫৭ লাখ টাকায় কাজটি আরম্ভ করলেও পরবর্তীতে ব্যয় কমিয়ে প্যালাসাইডিং ও ইউড্রেন বাদ দিয়ে ৫৪ লাখ টাকায় সেটি সমাপ্ত করা হয়।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জানান, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। সড়কে প্যালাসাইডিং নির্মাণের কথা থাকলেও উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে পরে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এসবের জন্য নির্মাণসামগ্রী আনার পর আবার সেগুলো ফেরত নিয়ে যেতে হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির কোচাশহর এলাকার কৈপাড়ায় পুকুরের পাশে প্যালাসাইডিং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ ও প্লাস্টিকের বস্তা ভর্তি মাটি। এতে সড়কটির একাংশ একটু একটু করে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়াও সড়কটির কিছু জায়গায় ইউড্রেন না থাকায় পানি জমে সড়কের পিচ নষ্টের উপক্রম দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রমথ চন্দ্র রায় বলেন, এই জায়গায় প্যালাসাইডিং করার জন্য ঠিকাদারের লোকজন খুঁটি নিয়ে আসছিল৷ দুই-তিনটা খুঁটি পোঁতার পর ইঞ্জিনিয়ার এসে খুঁটি বসাতে দেয়নি৷ ফলে কাজটি আর হয়নি। সামনে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে৷

একই এলাকার তপন সরকার বলেন, এই রাস্তার কাজের সময় প্যালাসাইডিং করার জন্য নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে এসেছিল। ইঞ্জিনিয়ার এসে কি বুঝল যে কাজটা করতে দিল না, বাধা দিল। কোনোমতে কাজটি করে চলে গেল। আমরা বাধা দিসি তারপরও শুনেনি। উনি বলে আমরা ইঞ্জিনিয়ার আমাদের চেয়ে কি তোমরা বেশি বুঝো, একথা বলে জিনিসগুলো নিয়ে চলে গেছে। এবার বর্ষা মৌসুমই পার হবে না, রাস্তা ফেটে প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে।

সড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী মোটরসাইকেল আরোহী চয়ন দত্ত বলেন, প্যালাসাইডিং করার কথা ছিল কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার এসে আমাদের বলছে এটা বাজেটে ছিল না। তবে প্যালাসাইডিং হয়ে নতুন করে রাস্তাটি সংস্কার হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতে সুবিধা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক বলেন, যখন এস্টিমেট করা হয়েছিল তখন সাইটে পানি ছিল। এস্টিমেট করার সময় ধারণা করা হয়েছিল ওখানে প্যালাসাইডিং প্রয়োজন। কিন্তু শুকনো মৌসুমে ঠিকাদার পানি সরিয়ে ফেললে দেখা গেল ওখানে প্যালাসাইডিং আছে। তখন আর প্যালাসাইডিং করার প্রয়োজন হয়নি৷ ঠিকাদার আগেই মাপ অনুযায়ী প্যালাসাইডিং সামগ্রী কিউরিং করে নিয়ে এসেছিল। আমি বলেছি যেহেতু এখানে প্যালাসাইডিং আছে, এক জায়গায় ডাবল করার সুযোগ নাই। সরকারি অর্থ অপচয় করার সুযোগ নাই। ইতিপূর্বে ওখানে যেভাবে প্যালাসাইডিং দেওয়া ছিল সেটা সঠিক এলাইমেন্টে ছিল না বলে ভেঙেছে বলে তিনি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews