
মীরসরাইয়ে ২৫০ রক্তযোদ্ধার মিলনমেলা, মানবতার বন্ধনে দিনব্যাপী উৎসব।
হারাধন চক্রবর্তী, মিরসরাই প্রতিনিধি :-
মীরসরাইয়ে দিনব্যাপী রক্তদাতা উৎসব, অংশ নিলেন ২৫০ রক্তযোদ্ধা
নিজস্ব সংবাদদাতা :::
‘আপনার এক ফোঁটা রক্ত বাঁচাতে পারে একটি জীবন’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে দিনব্যাপী ‘মীরসরাই রক্তদাতা উৎসব–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৫০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ও রক্তযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মীরসরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মীরসরাই রক্তদাতা উৎসবের সহ-অর্থ সম্পাদক আইয়ুব খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মীরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশিষ কুমার, ক্রীড়া শিক্ষক দিদারুল আলম, সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন, মীরসরাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজিব মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন।
এ সময় উৎসবের উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিসুল হক শিমুল, আরিফুল হাসান, শরিফুল ইসলাম, মেহেদি হাসান, মো. আবদুল্লাহ ও মীরজাদা সোহেল।
অনুষ্ঠানে মীরসরাই রক্তদাতা উৎসবের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি হাসান, আরিফুল ইসলাম ইমন ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অর্থ সম্পাদক মো. সোহেল, সাহারিয়া হোসেন আবির, আলিফ হাসান মেহেরাজ, সামিউল সোহাগ, আলফি আলম ও কেফায়েত সজিব।
উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রক্তের কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই। মানুষের জীবন বাঁচানোই রক্তদানের সবচেয়ে বড় পরিচয়। একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতার দেওয়া রক্তে বেঁচে যেতে পারে মুমূর্ষু রোগীর জীবন। তাই রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজকরা জানান, স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো, নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং রক্তদাতাদের মধ্যে মানবিক বন্ধন সুদৃঢ় করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ উৎসবের মাধ্যমে মীরসরাইয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদানের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষকে জীবন হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
দিনব্যাপী এ উৎসব রক্তদাতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। মানবতার টানে ও মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রত্যয়ে একত্রিত হওয়া প্রায় ২৫০ রক্তযোদ্ধার এ আয়োজন সমাজে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পরোপকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।