
হোসেনপুর উপজেলা গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর বলিয়াচর গ্রামে কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে শুভ মিয়া (২২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ ঘটিকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শুভ মিয়া সৌদি প্রবাসী সাদিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। তিনি দুই মেয়ের জনক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুভর রমজান মাসেই সৌদি আরব যাওয়ার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। ভিসা ও পাসপোর্টের কাজ শেষ করে তিনি প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে তার মায়ের ইচ্ছে ছিল, ছেলে যেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে তারপর বিদেশে যায়। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একই এলাকার আঃ সালামের ছেলে নাঈম মিয়া (২১), নুরু মিয়ার ছেলে রিয়াদ (২২), তাইজুল ইসলামের ছেলে সফিকুল (২২), হিমেল (২০), বকুল মিয়ার ছেলে আরমান (২১)সহ আরও তিনজন মহিলা এর সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত, কিন্তু নাম জানা যায়নি। আরো অজ্ঞাতনামা ১০–১৫ জন এ হামলায় জড়িত। জানা গেছে, তারাবির নামাজের পর অভিযুক্তরা নিহতদের বাড়ির টিনের চালে ঢিল ছুড়তে থাকে। এ সময় নিহতের ফুফাতো ভাই এনামুল হক প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এনামুল হক ঘরে চলে গেলে হামলাকারীরা শুভকে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় ও মাথার শিরার ওপর আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতের চাচী হেনা আক্তার (৪০), স্বামী রফিকুল ইসলাম, ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন—তারাবির নামাজের পর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় এবং শুভকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।