
স্টাফ রিপোর্টার: মাহফুজুর রহমান
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমানের তত্ত্বাবধানে খিলক্ষেত অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্স ইস্যু করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এতে সড়কে অদক্ষ চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত বিআরটিএ অফিসে নির্ধারিত ড্রাইভিং পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা গাড়ি চালনায় সম্পূর্ণ অদক্ষ প্রার্থীদেরও লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরীক্ষায় ফেল করার পরও কিছু বিশেষ আবেদনকারীকে ‘১০৮ নম্বর কক্ষে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষ সুপারিশ ও গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অনিয়মের পেছনে ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল (মিরপুর-১৩)-এর এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার সুপারিশ কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন আবেদনকারী জানান, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী চক্র এখানে সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও স্বাধীনভাবে কোনো নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমানের সাথে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব গুরুতর অনিয়মের বিষয়ে তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তাও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা অসম্ভব। তারা বলছেন: অদক্ষ চালক: টাকার বিনিময়ে অদক্ষদের লাইসেন্স দেওয়া মানেই সড়কে ‘ঘাতক’ নামিয়ে দেওয়া।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি: লাইসেন্স বাণিজ্যের ফলে সড়কে জানমালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়ছে। তদন্তের দাবি: তারা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিআরটিএ-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় এমন অনিয়ম চলতে থাকলে সড়ক নিরাপদ করার সরকারি উদ্যোগ ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।