
আওয়ামী লীগের আমলে শেরপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উৎসব পালন করতে পারেনি, এমপি রুবেল:-
শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা পালন করতে পারেননি। চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের দিন কাটত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও সহিংসতার আতঙ্কে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তটস্থ থাকতেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে ঝিনাইগাতী উপজেলার পঞ্চগ্রাম সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন শালচুরা মাধব হাজং।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমান, শেরপুরের বিএনপি নেতা মেজবাউল হক বাবু ও ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
এছাড়া তিনি ঝিনাইগাতী দক্ষিণ গান্ধীগাঁও শ্রী শ্রী নব তরঙ্গ দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পৃথক পৃথকভাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।
পূজামণ্ডপে উপস্থিত পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দুর্গোৎসব আনন্দময় ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে। তাই সবাইকে নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির সংবিধানে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই। জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন।বাংলাদেশ সংবাদ
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংখ্যালঘু তকমা দিয়ে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। পূজামণ্ডপে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে এমপি বলেন, দুর্গাপূজা বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের মতো সমাজ থেকেও অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর হোক- এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সবাইকে মিলেমিশে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।