
কালকিনিতে কৃষকের বসতিতে অপপ্রচার চালিয়ে অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার ১
উজ্জ্বল মন্ডল
কালকিনি, মাদারীপুর।
মাদারীপুরের কালকিনিতে ৭০ বছর বয়সী সৌদি আরব ফেরত কৃষক হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদারের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জাকির সরদারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার সাহেবরামপুর বাজার থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবব্রত চিন্তাপাত্র সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। জাকির সরদার উপজেলার চর সাহেবরামপুর গ্রামের মৃত এমদাদুল সরদারের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে প্রায় ১০ বছর আগে চর সাহেবরামপুর গ্রামে জমি কিনে দোতলা টিনের বসতঘর নির্মাণ করেন ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান হাবলু শিকদার। ওই জমি নিয়ে প্রতিবেশী কামাল মালের সঙ্গে তাঁর বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে ২০২২ সালে আদালতের দ্বারস্থ হয় হাবলু শিকদার।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্ববর্তী মামলার সূত্রধরে বর্তমান সময়ে প্রতিবেশীর পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে দিয়ে হাবলু শিকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর বিকেলে অভিযোগের বিষয়ে আপস-মীমাংসার দিন নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সময়ে হাবলু শিকদার উপস্থিত না হওয়ায় একদল লোক তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দিলে পুরো ঘরটি পুড়ে যায়।
অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর হাবলুর স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম ১৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকির সরদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জহিরুল আলম বলেন, কৃষকের বসতঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের মতে, যেখানে ব্যক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত সেখানে ধর্ষণের মত মারাত্মক অভিযোগ যদি আসলেই সত্যি হয় সেক্ষেত্রে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে কোন ক্ষমতাবলে তা বিচার করার অধিকার পায় সেটিই বোধগম্য নয়? আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারো কোন অধিকার কিংবা সুযোগ নেই।