
“দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৪ বছরের রক্ত-ঘামে উপার্জিত ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা! দেশে ফিরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে আত্মসাতের বিস্ফোরক অভিযোগ”
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
ফেনী। ১লা জুলাই ২০২৬ইং।
ফেনীতে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী আবুল মনছুর আহাদের দাবি— বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মেজো ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়েছেন; হিসাব চাইতে গেলে মিলেছে হুমকি, চাইলেন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ।
ফেনীতে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইয়ের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচারের আবেদন
ফেনীতে আপন মেজো ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রবাসে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে উপার্জিত ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছোট ভাই আবুল মনছুর আহাদ। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৪ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে দেশে অর্থ পাঠালেও দেশে ফিরে সেই বিশ্বাসই আজ তার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) ফেনী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের মৃত খায়েজ আহমদ মিয়ার ছোট ছেলে আবুল মনছুর আহাদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ১৪টি বছর হাজার মাইল দূরের দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটিয়েছেন শুধুমাত্র পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির আশায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে উপার্জিত প্রতিটি টাকা বিশ্বাস করে দেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাইতে গিয়ে আজ তিনি নিজ পরিবারেই অবহেলিত ও প্রতারিত।
তার অভিযোগ, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় “আল মনছুর টেক অ্যাওয়ে” নামে একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে তিনি নিয়মিত দেশে অর্থ পাঠান। মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদ তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তার নামে ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য একটি হাইস গাড়ি কিনে দেবেন। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিজের ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা ভাইয়ের ওপর ছেড়ে দেন।
কিন্তু দেশে ফিরে তিনি দেখেন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুললেও তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা অর্থের হিসাব দেওয়া হয়নি। বরং হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বড় ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এন.এ. কনস্ট্রাকশন-এর হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকা পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে পাঠানো অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালে দেশে ফেরার আগে বড় ভাই হাতে লেখা টাকার একটি হিসাবের চিরকুট মেজো ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে দিয়ে আসেন। দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেওয়া হয়নি। উল্টো হিসাব চাইতে গেলে বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল মনছুর আহাদ বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব, শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“প্রবাসে জীবনের সোনালি সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবুল মনছুর আহাদ উত্থাপন করেছেন। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।