বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
Title :
সাংবাদিক মাসুদ মোল্লার স্মরনে দোয়া ও মোনাজাত। ডুমুরিয়ায় দলিত ইনক্লুসিভ পাথওয়েস ফর ডিসএ্যাডভানটেস ভালনারেবল কমিউনিটি আয়োজনে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল এলাকা হইতে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। লৌহজংয়ে ডিবির অভিযানে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৪ হাসাড়া কালী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির নতুন সভাপতি ডাঃ আনজুমান আরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নকলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোটালীপাড়ায় ই য়া বা সেবনের দায়ে যুবকের দুই মাসের কারাদণ্ড ৮৮নং পশ্চিম দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া সঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আমিনুল ইসলাম। সীমান্ত পেরিয়েই বিপদ! আলীকদমে ৫৭ বিজিবির হাতে ১৪ মিয়ানমার নাগরিক সীমান্ত পেরিয়েই বিপদ! আলীকদমে ৫৭ বিজিবির হাতে ১৪ মিয়ানমার নাগরিক

বালু-পাথরে গিলে খাচ্ছে ফসল রক্ষার পান্ডারখাল বাঁধ, হুমকিতে ডেখার হাওর।

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৭ Time View

বালু-পাথরে গিলে খাচ্ছে ফসল রক্ষার পান্ডারখাল বাঁধ, হুমকিতে ডেখার হাওর।
সাইফুল আলম ।
প্রতিনিধ :দোয়ারাবাজার উপজেলা সুনামগঞ্জ ।

সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজার উপজেলার ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধ এখন অস্তিত্ব সংকটে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের স্তূপ এবং একাধিক স্টোন ক্রাশার গড়ে ওঠায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, শুকিয়ে যাচ্ছে গাছপালা, বাড়ছে বাঁধ ধসে পড়ার ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাঁধের সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ডেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি এলাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৫১ বছর আগে নির্মিত পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশে বিশাল আকারে ইট, বালু ও পাথরের স্তুপ রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্টোন ক্রাশারও পরিচালিত হচ্ছে। ভারী মালামালের চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ধুলাবালু ও শব্দদূষণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭৪ সালে ডেখার হাওরসহ আশপাশের হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একসময় দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছ আর মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নদী পান্ডারখালকে একটি মনোরম পর্যটনসদৃশ স্থানে পরিণত করেছিল। সরকারি উদ্যোগে নির্মিত বসার ছাউনিগুলোও ছিল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ দখল ও বালু-পাথরের স্তূপে সেই সৌন্দর্য প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে অবৈধ দখল ও ভারী মালামাল সংরক্ষণ চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ধসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে ডেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হতে পারে।
বালু-পাথরের স্তূপের কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা দুর্ভোগ। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, আগে যেখানে বসে সময় কাটানো যেত, এখন সেখানে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাঁধ দখল ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ে বহুবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছি। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কয়েকদিন পর আবার আগের মতো ব্যবসা শুরু হয়ে যায়।
পথচারী মো. আমিন বলেন, ছাতক ও দোয়ারাবাজার থেকে সুনামগঞ্জে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাঁধটি এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনাও ঘটছে।
দোহালিয়া ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “একসময় বন্ধুদের সঙ্গে এখানে বসে আড্ডা দিতাম, ছবি তুলতাম। এখন চারদিকে শুধু বালু-পাথরের স্তূপ। সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল বলেন, ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধ ধ্বংসের পথে। এটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews