
মেলান্দহ (জামালপুর)
জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের আগে থেকে চলে আসা পাতানো মামার অনৈতিক প্রলোভনে পড়ে প্রায় পৌনে সাত লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় জামালপুর সদর থানা এলাকা থেকে অভিযুক্ত গৃহবধূ ও তার পাতানো মামাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মামা প্রথমে মিথ্যা বলে ঘটনা অস্বীকার ও নাটক সাজানোর চেষ্টা করলেও, পরবর্তীতে পুলিশের নিবিড় জেরার মুখে সত্যতা স্বীকার করেন।
অভিযোগ ও থানা সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ১০ নং ঝাউগড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝাউগড়া গ্রামের মোঃ সুজন মিয়ার (৪৫) সাথে সুমি আক্তারের (২৭) ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। তবে বিবাহের আগে থেকেই সুমি আক্তারের সাথে তার পাতানো মামা মোঃ এমদাদুল ইসলাম ওরফে অরচন মিয়ার (৪৫) অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিবাহের পরও পাতানো মামা তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং সুমি আক্তারকে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য ফুসলাতে থাকেন।
গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় সুযোগ বুঝে পাতানো মামা এমদাদুল ইসলাম সুজন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে সুমি আক্তারকে জরুরি কথা বলে সঙ্গে করে নিয়ে যান। ওই দিন রাতে সুমি আক্তার তার শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার (যার মধ্যে চুড়ি, চেইন, একাধিক নাকফুল, ডায়মন্ডের নাকফুল ও কানের দুল রয়েছে) নিয়ে আত্মগোপন করেন।
পরবর্তীতে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মেলান্দহ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে অভিযুক্ত এমদাদুল ইসলামকে আটক করে। আটকের পর প্রথমে পুলিশের কাছে প্রতারণা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নানা কৌশলে পুরো ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন বিবাদী এমদাদুল। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশের বিষদ জিজ্ঞাসাবাদ ও জেরার মুখে তিনি সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জামালপুর সদর থানার পৌরসভা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গৃহবধূ সুমি আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, বিয়ের আগে থেকেই তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুমি আক্তারকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ভাড়া বাসায় অনৈতিকভাবে বসবাস করছিলেন। একই সাথে সুমি আক্তারের সাথে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ ও হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মোঃ সুজন মিয়া বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৬, তারিখ: ২৩/১০/২০২৬ইং, ধারা: ৪২০/৪০৬/৪৭৯/৪৭৮/৩৪) দায়ের করেছেন।
মেলান্দহ থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।