
এম মাহফুজার রহমান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের জিম্মি করে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করে রাখা ২০৯ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অসাধু সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ করা এসব সারের সরকারি মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের শোভাগঞ্জ বাজারের ‘মেসার্স আজাহার আলী’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।অভিযান পরিচালনা করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঈফফাত জাহান তুলি। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সদস্য এবং কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির লক্ষ্যে বিশাল সার চালান অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। শোভাগঞ্জ বাজারের ‘মেসার্স আজাহার আলী’ গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ১০২ বস্তা ইউরিয়া এবং ১০৭ বস্তা এমওপি (পটাশ) সার জব্দ করা হয়। সরকারি দর অনুযায়ী, ১০২ বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং ১০৭ বস্তা এমওপি সারের মূল্য ১ লাখ ৭ হাজার টাকা, অর্থাৎ মোট ২০৯ বস্তা সারের সরকারি সর্বমোট মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা।
পরবর্তীতে সারের বৈধ কাগজপত্র ও চালান দেখাতে না পারায় সার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সারের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা ও স্থানীয়দের অভিযোগ অভিযান চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং ইউএনও-র কাছে সারের সুনির্দিষ্ট উৎস বা চালান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
তবে অনুসন্ধানে ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে এক ট্রাক সার উক্ত গুদামে আনলোড করা হয়। গভীর রাতে সেই সারের একাংশ বিভিন্ন কালোবাজারি ব্যবসায়ীদের হাতে গোপনে হস্তান্তর করা হয়।সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে একপর্যায়ে ব্যবসায়ী দাবি করেন— সারগুলো চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছে, কিন্তু এর সপক্ষে তিনি কোনো বৈধ চালান বা রসিদ প্রদর্শন করতে পারেননি।
অবৈধভাবে এত বিপুল পরিমাণ সার সরকারি বণ্টনব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে গুদামে এলো, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষকদের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সার কারখানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অনুমোদিত ডিলার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অসাধু চক্র এই কৃত্রিম সংকট তৈরি ও কালোবাজারির পেছনে জড়িত কি না— তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানান, উপজেলা প্রশাসন জব্দ করা সার আমার জিম্মায় রেখেছে। শিগগিরই এসব সার সরকারি নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান ও বাজার মনিটরিং নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।