
হবিগঞ্জে জামিনের পরও গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।
গাজি আলী আকবর শ্যামল, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
হবিগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের প্রভাবে পুলিশি হয়রানি, জামিননামা দেখানোর পরও গ্রেপ্তার এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন আবজল মিয়া নামে এক ব্যক্তি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আবজল মিয়া বলেন, হবিগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উমেদনগর এলাকায় তাঁদের পূর্বপুরুষের মালিকানাধীন একটি পুকুরের ১৭ শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁর দাবি, এ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়। আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে স্ব স্ব অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন বলেও তিনি জানান।
আবজল মিয়ার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ ১০৭ ধারায় আরেকটি মামলা করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় ১১ জনকে বিবাদী করা হয় এবং তাঁরা আদালতে এক বছরের মধ্যে শান্তিভঙ্গ করবেন না মর্মে মুচলেকা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, তাঁর দায়ের করা ১৪৪ ধারার মামলার এক আসামির ছেলে ফয়ছল মিয়া বাদী হয়ে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি তাঁর পরিবারের ১২ জনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ একটি সিআর মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১৪৮০/২০২৫। গত ৪ অক্টোবর ওই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে ১২ জনের মধ্যে ১০ জন জামিন পান বলে দাবি করেন তিনি।
আবজল মিয়ার অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকার কথা জানায়। এ সময় পরিবারের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের জামিন হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের আগে এবং থানায় নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে জামিননামার অনলাইন পিডিএফ ও প্রিন্ট কপি দেখানো হলেও তাঁরা তা আমলে নেননি। বরং জামিননামাগুলো ভুয়া বলে তাঁর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে আইনজীবী জামিননামার কপি উপস্থাপন করেন এবং আদালত তাঁদের ছেড়ে দেন বলে তিনি জানান।
আবজল মিয়ার আরও অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে এসআই সোহেলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর দুই ভাই আওয়াল মিয়া ও আল কারিমের খোঁজ করেন। তাঁদের জামিনে থাকার বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ চলে যায়। তবে একই দিন সন্ধ্যায় আবার পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে যান। এ সময় পরিবারের নারী সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আবজল মিয়া বলেন, তাঁর পরিবার কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নয়। বারবার পুলিশ বাড়িতে যাওয়ায় পরিবারের নারী ও শিশুরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে তিনি এ পরিস্থিতিতে ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।