
ডিমলায় ‘ভুল চিকিৎসায় ’ প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক মালিক-চিকিৎসক গা ঢাকা।
ডিমলা (নীলফামারী)সংবাদদাতা।
নীলফামারীর ডিমলা সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় গুরুতর ভুল অস্ত্র পাচারের কারণে এক প্রসূতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিক গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃত প্রসূতি মোছা. মোরশেদা বেগম (২৭) উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের পিয়াজী পাড়া গ্রামের মো. লিটন ইসলামের স্ত্রী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ডিমলা সদরের স্কয়ার ক্লিনিক-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মনির সিজারিয়ান অপারেশন করেন।
প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রস্রাবের নালী কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা সেলাই দিয়ে বন্ধের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভুলভাবে সেলাই দেওয়ার কারণে প্রস্রাব স্বাভাবিকভাবে বের হতে না পেরে পেটে জমে যায় এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
পরদিন বৃহস্পতিবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোরশেদাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার তিনি মারা যান।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লিনিক মালিক মো. ছপিয়ার রহমান দায়ী চিকিৎসক স্থানীয় ওই ইউনিয়নের আ,আলীম শিপন নামের জনৈক নেতার মধ্যস্থতায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেন। দ্রুত দাফনের জন্য মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়া হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী দাফনে বাধা দেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তোলেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিক পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে চিকিৎসায় গাফিলতির সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি—স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে না হয়।